প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:৩৩ এএম
ছিন্নমূল শীতার্তদের দিকে নজর দিন
শীতের আগমনে আমরা
যারা ভাগ্যবান তারা শীতের কাপড় নামানোর তোড়জোড় করি। কেউ কেউ আয়োজন করে শীতকে আলিঙ্গন
করেন। কিন্তু যারা রাস্তায়, ফুটপাতে রাতযাপন করেন তাদের জন্য শীত অভিশাপ। প্রতি বছর
কিছু কিছু সংস্থা বা ব্যক্তি উদ্যোগী হয়ে শীতার্তদের মাঝে কম্বল-চাদর বিতরণ করেন, যা
সমস্যার সাময়িক সমাধান। তবে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারকে যেমন উদ্যোগী
হতে হবে তেমন সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। ঘরহারা মানুষ, পথশিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ,
মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করার জন্য প্রয়োজন আন্তরিক সদিচ্ছা; যার মাধ্যমে
তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে, শীত হয়ে উঠবে উপভোগ্য।
আফিফা জাহান
পুষ্প
শিক্ষার্থী, টেলিভিশন
ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইবি ক্যাম্পাসে
সড়কবাতি প্রয়োজন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,
কুষ্টিয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ ক্যাম্পাসে আলোকব্যবস্থা হতাশাজনক।
সন্ধ্যার পর পুরো ক্যাম্পাস অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কেবল প্রধান ফটক ও কিছু নির্দিষ্ট
স্থানে সামান্য আলোর ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ জায়গায় আলোকস্বল্পতা শিক্ষার্থীদের চলাচল
বিপজ্জনক করে তুলেছে। লাইব্রেরি, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোর আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর
অভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা কাজ করে।
শিক্ষার্থীদের
দাবি, ক্যাম্পাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
হোক। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত হবে। কর্তৃপক্ষের
প্রতি আহ্বান, শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত
আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবেন।
শারমিন আক্তার
স্বর্ণা
শিক্ষার্থী, ইসলামী
বিশ্ববিদ্যালয়
নিম্ন আয়ের
মানুষের ভোগান্তি
মূল্যস্ফীতিসহ
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আয়ের তুলনায় ব্যয়ের দ্বিগুণ চাপ, কর্মহীনতা এবং প্রাকৃতিক
প্রতিকূলতা মিলিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে অসহনীয়। সরকারি সহায়তা থাকলেও
তা অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অর্থনৈতিক চাপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির
শিকার নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ। চাল, ডাল, তেল, লবণ, সবজি ও মাংসের মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যের
মূল্য এমনভাবে বাড়ছে যাতে নিম্ন আয়ের মানুষের তিন বেলার খাবার নিশ্চিত করা অনেকটাই
দুঃসাধ্য।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান
ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে
প্রায় ১০%।খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও সুষ্ঠু বিতরণব্যবস্থার অভাবে
নিম্ন আয়ের মানুষের অনেকেই এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ত্রাণ ও ভর্তুকি
ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে খাদ্যসংকটের
প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। সেইসঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলায়
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যসংকট যেন
কোনোভাবেই মানবিক বিপর্যয়ে রূপ না নেয়। সরকার ও সমাজের দায়িত্বশীল মহল যদি এখনই কার্যকর
উদ্যোগ নেয়, তবে এ সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং কার্যকর নীতির
মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া সম্ভব।
শফিকুল ইসলাম
জয়
ঘাটাইল সদর, টাঙ্গাইল